হত্যার ভয় দেখিয়ে ‘সৎ বোনের’ সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, দুবার অন্তঃসত্ত্বা

হত্যার ভয় দেখিয়ে ‘সৎ বোনের’ সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, দুবার অন্তঃসত্ত্বা

হত্যার ভয় দেখিয়ে ‘সৎ বোনের’ সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, দুবার অন্তঃসত্ত্বা

আলী আকবর, কুমিল্লা প্রতিনিধি
  

অভিযুক্ত সৎ ভাই মেহেদি হাসান (বাঁয়ে) ও ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের। ছবি : সংবাদ সংযোগ
অভিযুক্ত সৎ ভাই মেহেদি হাসান (বাঁয়ে) ও ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের। ছবি : সংবাদ সংযোগ

অভিযুক্ত সৎ ভাই মেহেদি হাসান (বাঁয়ে) ও ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের। ছবি : সংবাদ সংযোগ

লম্পট ওই সৎ ভাইয়ের নাম মেহেদি হাসান। সে রাজামেহার ইউপির গোবিন্দপুর গ্রামের শাহ আলম সরকারের ছোট ছেলে।

দিনের পর দিন সৎ ভাই মেহেদি হাসানের (২২) কাছে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিল নবম শ্রেণির এই নীর অপরাধ স্কুলছাত্রী (১৫)। এতে একবার নয়, দুবার অন্তঃসত্ত্বা  হয়ে পড়ে সে। ঘটনা কাউকে জানালে তাকে ও তার বাবাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
এই সমস্ত অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে সে এক এর পর এক ভয় দেখিয়ে !


ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৎ ভাই মেহেদি হাসান (২২) ওই নীর অপরাধ স্কুলছাত্রীকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে। এতে প্রথমেও একবার অন্তঃসত্ত্বা হয় সে। সন্তান প্রসবের পর মেহেদি তাকেও হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর তার পর আবার সে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এই স্কুল ছাত্রীর সঙ্গে।
ভুক্তভোগী মেয়েটি জানায়, তাদের মা বিষয়টি জানার পর তার পায়ে পড়ে মাফ চেয়ে এমন কাজ দ্বিতীয়বার না করার কথা দেয় সে। কিন্তু দ্বিতীয়বারও বোনকে জোর করে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে মেহেদি।
তাকে বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একেরপর এক সে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাচ্ছে,
এতে করে ফের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে কিশোরী।
এমন ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে কথা হলে মেহেদির বাবা সংবাদ সংযোগ কে  জানান, ১২ বছর আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মারা যান তার স্ত্রী- এবং পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলে রেখে মারা যান তার স্ত্রী। পরে তিনি পাশের ইউনিয়নের এক বিধবা নারীকে বিয়ে করেন। সেই নারীর একটি মেয়ে (কিশোরী) থাকায় তাকেসহ বাড়িতে তোলেন তিনি। মেয়েটির অন্য কোন অবস্থান না থাকায় তার কোন আবাসস্থল নেই বলেই এখানে আসতে হয় ঐ কিশোরী।

মেহেদির বাবা আরও জানান, পাঁচ মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তারা শ্বশুরবাড়ি থাকেন। বড় ছেলে তাবলীগ জামায়াতে থাকায় দুটি ঘরের একটি বাড়ি বানিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন তারা। একটি ঘরে স্ত্রীসহ তিনি এবং অন্য ঘরে থাকত মেহেদি ও তার এই বোন (কিশোরী)। দুজনই শিক্ষার্থী।
তবে কি শিক্ষা যে নিচ্ছে তা তো বুঝতে পারছেন, তাদের মধ্যে মেহেদি কলেজছাত্র ও কিশোরী নবম শ্রেণির ভোগের মালী স্কুল ছাত্রী।


কিশোরী ওই মেয়ে জানায়, ইংরেজিতে পারদর্শী হওয়ায় বড় ভাইকে মাঝে মাঝে পড়াতো সে। একসঙ্গে পড়তে বসায় মেহেদি তার দিকে কুনজর দিতো। পড়ার সময় মজার ছলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিতো। একদিন কুপ্রস্তাব দেয় সে। রাজি না হলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় নরপশু  মেহেদি হাসান।


ওই কিশোরী স্কুল ছাত্রী বলে, ‘একদিন মেহেদি আমাকে কু প্রস্তাব দেয়। রাজি না হলে বাবাকে মেরে ফেলে মায়ের কাঁধে দোষ চাপানোর কথা বলে। এই ভয়ে আমি কিছু বলতে পারতাম না। বিভিন্ন সময় শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতো মেহেদি। একদিন ঘরে কেউ না থাকায় জোর করে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে আমাকে।’
ওই মেয়ে জানায়, এরপর থেকে লাগাতার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করত মেহেদি। বাবাকে হত্যা করা ছাড়াও বিভিন্ন হুমকি দেওয়ায় নির্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করত। এর মধ্যে একবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে সে। মেহেদি তার পেটের বাচ্চা নষ্ট করার জন্য বিভিন্নরকম ওষুধ খাওয়াতো। একদিন তাদের মা বিষয়টি বুঝতে পেরে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন সে মাকে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন। ছেলেকে প্রশ্ন করতেই মায়ের পা ধরে নিজের ভুল শিকার করে মেহেদি। তার মেয়েকে বিয়ে করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেয় মেহেদি। এই সব কিছু বলে নিজের অপকর্ম গুলো আরাল করার চেষ্টায় ছিল এই নরপশু মেহেদি হাসান!


কিশোরী জানায়, বাচ্চা নষ্ট হয়েছে ধারণা ছিল মেহেদির। কিন্তু গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে প্রসব ব্যাথা ওঠে তার। রাতেই নিজের ঘরে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেয় সে। এদিকে সন্তান জন্ম নেওয়ায় বিপাকে পড়ে মেহেদি। পরে মায়ের কোল থেকে সন্তানকে কেড়ে নিয়ে যায় সে। কিশোরী অভিযোগ, ‘তার সন্তানকে হত্যা করেছে নরপশু মেহেদি।'

ওই কিশোরী স্কুলছাত্রী আরও জানান, মাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তাকে বিয়ে করবে দোহাই দেখিয়ে আবারও তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করে মেহেদি। বর্তমানে সে দুমাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই খবর পেয়ে পালিয়ে যায় মেহেদি। অজ্ঞাত স্থান থেকে বিভিন্ন নম্বারের মাধ্যমে কল দিয়ে ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে কিশোরীকে হুমকি দিচ্ছে সে।
বিষয়টি নিয়ে মেহেদির বড় বোনের সঙ্গে কথা বলতে তার মুঠোফোনে কল করা হলে রাগান্বিত হয়ে তিনি বলেন, ‘কে আপনি? আপনি এত কিছু জানেন কীভাবে?’ এরপর সাংবাদিক পরিচয় দিলে ফোন কেটে দেন তিনি। তার বোনেদের মধ্যে ও এই বিষয়টি আনাগোনা ছিল।
এ বিষয়ে মেহেদির বাবা সংবাদ সংযোগ কে জানান, তিনি ঘটনাটি জানেন। এ কারণে ছেলের সঙ্গে তার তেমন সম্পর্ক নেই।

মেহেদির বাবা বলেন, ‘এমন কুলাঙ্গার ছেলে যেন কারও ঘরে জন্ম না নেয়। সে আমাকেও মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমি আইনের আশ্রয় নেব।

বিষয়টি নিয়ে রাজামেহার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সংবাদ সংযোগ কে বলেন, ‘এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আমার ইউনিয়নে হচ্ছে আমার জানা নেই। আমি খোঁজ-খবর নিচ্ছি। এ ব্যাপারে কিশোরী কে  যেকোনো সহায়তা করা হবে।’

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আনোয়ার সংবাদ সংযোগকে বলেন, ‘কিশোরীর পরিবার থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক আমার যেকোনো আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় করতাম,

এবং কিশোরীকে যেকোনো আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।’


এবং কিশোরীকে এই বিষয়টি আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি !

0 Response to "হত্যার ভয় দেখিয়ে ‘সৎ বোনের’ সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, দুবার অন্তঃসত্ত্বা"

Post a Comment

Iklan Atas Artikel

Iklan Tengah Artikel 1

Iklan Tengah Artikel 2

Iklan Bawah Artikel